বৃহস্পতিবার, ০৫ মার্চ ২০২৬, ০২:০৬ পূর্বাহ্ন

শ্বশুর হত্যায় জামাইয়ের ১৫ লাখ টাকার চুক্তি, ডিবির জালে আরেক আসামি গ্রেফতার।
নিজস্ব প্রতিবেদক।
যশোর শহরের শংকরপুরে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) নেতা আলমগীর হোসেন হত্যা মামলার চাঞ্চল্যকর রহস্য উন্মোচন করেছে যশোর জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে ১৭ মামলার আসামি মনিরুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। রোববার (১ মার্চ) সন্ধ্যায় আদালতে তিনি স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।
ডিবি সূত্র জানায়, শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) রাতে শহরতলীর ঝুমঝুমপুরের মাস্টারপাড়া এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি শহরের ষষ্ঠীতলাপাড়ার আব্দুল খালেকের ছেলে। পরে তাকে যশোর সদর আমলি আদালত-এ হাজির করা হলে বিচারক সাকিব আহম্মেদ ইমন তার জবানবন্দি গ্রহণ করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ডিবির উপপরিদর্শক অলক কুমার দে জানান, গ্রেপ্তারকৃতের বিরুদ্ধে হত্যা ও অস্ত্রসহ মোট ১৭টি মামলা রয়েছে। আদালতে তিনি আলমগীর হোসেন হত্যায় জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন।
স্বীকারোক্তিতে উঠে এসেছে, হত্যার মূল পরিকল্পনাকারী ছিলেন নিহতের জামাই পরশ। শ্বশুরকে হত্যার জন্য ১৫ লাখ টাকার চুক্তি করা হয়। ঘটনার দিন মিশনে অংশ নেওয়া ব্যক্তিদের ৫ লাখ টাকা দেওয়ার কথা ছিল। বিকেলে শুটার ত্রিদিব ওরফে মিশুক-এর হাতে এক লাখ টাকা ও একটি পিস্তল তুলে দেওয়া হয়।
হত্যার পর বাকি ৪ লাখ টাকা শংকরপুরের প্রিন্সের কাছ থেকে ধার নিয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা ছিল। অবশিষ্ট ১০ লাখ টাকা পরে পরিশোধের আশ্বাস দেওয়া হয়। হত্যামিশনে ১০ থেকে ১২ জন অংশ নেয় বলে জানা গেছে।
পরিকল্পনা অনুযায়ী তিনটি মোটরসাইকেলে ভাগ হয়ে অভিযানে নামে হামলাকারীরা। প্রথম মোটরসাইকেলে ছিল অমিত ও শুটার মিশুক। দ্বিতীয়টিতে আরও দুজন এবং তৃতীয়টিতে তিনজন অবস্থান নেয়।
গত ৩ জানুয়ারি সন্ধ্যা ছয়টার দিকে আলমগীর হোসেন শংকরপুর বটতলা হয়ে ইসহাক সড়কে প্রবেশ করলে তিনটি মোটরসাইকেল তাকে অনুসরণ করে। ইসহাক সড়কে একটি দোকানে কিছুক্ষণ থামলে তারাও অবস্থান নেয়। সাবেক কাউন্সিলর নয়নের অফিসের কাছে পৌঁছালে চলন্ত মোটরসাইকেল থেকে গুলি চালানো হয়। এরপর দুই মোটরসাইকেলে চারজন দ্রুত গোলপাতা মসজিদের দিকে পালিয়ে যায় এবং অপর মোটরসাইকেলটি বটতলার দিকে ঘুরে যায়।
হত্যাকাণ্ডের পরপরই পুলিশ অভিযান চালিয়ে পরশ ও তার সহযোগী সাগরকে আটক করে। তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে বেজপাড়ার ত্রিদিব ওরফে মিশুককে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তার স্বীকারোক্তিতে রায়পাড়া তুলোতলা এলাকার শাহীন কাজীকে আটক করা হয়।
শাহীন কাজীর জবানবন্দিতে মনিরুল ইসলামের নাম উঠে এলে সেই সূত্র ধরেই তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। আটক পাঁচজনের মধ্যে তিনজন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।
নিহত আলমগীর হোসেন শংকরপুর এলাকার ইসহাক সড়কের বাসিন্দা ছিলেন। ঘটনার পর তার স্ত্রী শামীমা বাদী হয়ে কোতোয়ালি থানায় জামাই পরশ, সাগরসহ অজ্ঞাত ব্যক্তিদের আসামি করে হত্যা মামলা দায়ের করেন।
তদন্ত সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, হত্যায় ব্যবহৃত মোটরসাইকেলও উদ্ধার করা হয়েছে। মোটরসাইকেলের নম্বর প্লেটে লেখা ছিল— ‘হাদি ইজ নট নেম, হাদি মিনস বাংলাদেশ’।
চাঞ্চল্যকর এই হত্যাকাণ্ডে জড়িত অন্যদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে ডিবি পুলিশ।